৮ম পে স্কেল ও আমলাতন্ত্র

৮ম পে স্কেল নিয়ে ০৬-০১-২০১৬ তারিখে বহুল প্রচারিত ২টি জাতীয় দৈনিকের শিরোনাম ও সংবাদ ছিল মন্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্তৃক আমলাদেরকে দোষারোপ নিয়ে। ১৭-১২-২০১৫ তারিখে সাবেক মন্ত্রীপরিষদ সচিব, যিনি একজন আমলা, জনাব আলী ইমাম মজুমদারের আরেকটি জাতীয় দৈনিকে লিখা নিবন্ধে প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে আমলাদেরকে দোষারোপ করা হয়েছে। কেননা ৮ম পে স্কেল প্রনয়ন কমিশন সদস্যরা আমলাই ছিলেন।

জাতীয় জীবনে “কান কথা” বলে একটি বচন বহুলভাবে প্রচলিত আছে। চাকুরীজীবনে এটা আরও মারাত্মক। “কান কথা” বলে বা শুনে অনেকের জীবন শেষ হয়ে যেতে পারে। আমলা বা সচিবরা দাপ্তরিক কাজে সার্বক্ষনিক প্রধানমন্ত্রী/মন্ত্রীর কাছে বা পাশে থাকেন। তাদের পক্ষে যত কথা প্রধানমন্ত্রী/মন্ত্রীকে বলা সম্ভব, তত কথা আর কারও পক্ষেই বলা সম্ভব নহে। পত্রিকায় প্রকাশিত একাধিক সংবাদে এটাই দেখা গেছে যে, আমলারা প্রধানমন্ত্রী/মন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়েছেন।

শিক্ষক, বৈজ্ঞানিক, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, চিকিৎসাবিদগন দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজে যে পরিমান মেধা ও শ্রম ব্যয় করেন, আমলাদের তার কোটি ভাগের একভাগ পরিমান মেধা ও শ্রম ব্যয় করেন না বা প্রয়োজন হয়না। ২-৪জন বা তারও বেশী আমলার মেধা এদের(শিক্ষক, বৈজ্ঞানিক, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, চিকিৎসাবিদ) মত বা কেহ কেহ তার চাইতে বেশী মেধাবী হলেও সিংভাগ আমলার মেধা শিক্ষক, বৈজ্ঞানিক, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, চিকিৎসাবিদগনের মেধার তূলনায় barren headed. বিসিএস পরীক্ষায় প্রশাসন ক্যাডার চয়েস করে “যদি লাইগা যায়” টাইপের চান্স নিয়ে এরা এখন রাজা। আর এর ফলে শিক্ষক, বৈজ্ঞানিক, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, চিকিৎসাবিদগনকে হেন কোন উপায় নাই যদ্দরুন তারা হেয় প্রতিপন্ন করেনা।

স্বাধীনতার ৪৪বছর ধরে চলে আসা নিয়ম, যেখানে PDB, WDB, LGED, REB, BCIC, BSEC, BRTC, BTMC, BJMC, BADC, BSFIC, ইত্যাদির মত রাস্ট্রের উন্নয়নের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন সংস্থাসমুহের প্রথম শ্রেনীর কর্মকর্তারা চাকুরীতে প্রবেশের সময় ক্যাডারভুক্ত প্রথম শ্রেনীর কর্মকর্তাদের অনুরূপ স্কেল পেয়ে আসত, আজ এতবছর পর এমন কি হয়েছে যে, ননক্যাডার প্রথম শ্রেনীর কর্মকর্তাদেরকে এক স্কেল অবনমিত করতে হবে? বেতন-ভাতা কি আমলাদের পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে দেয়া হয়?  যারা এই অবনমন এর সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত এরা(সবাই নহে) সমাজের জারজ সন্তান।

Related posts