১৯বছর পূর্বে করা হত্যা মামলার বাদী ১৫বছর পূর্বে মৃত, মামলা জীবিত

নারায়নগঞ্জের আড়াই হাজারে ডাকাতির সন্দেহে ৮জনকে গনপিটুনী দিয়ে হত্যা করা হয়। এ সংবাদটি প্রথম আলোসহ প্রায় সকল পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করনেও প্রকাশ করা হয় যেখানে ৬৪জন পাঠক সরাসরি মন্তব্য করেন এবং লাইক-ডিসলাইকে মন্তব্যকারীর সংখ্যা প্রায় সহস্রাধিক। সিংহভাগ পাঠকের মন্তব্যে “বিচারহীনতা, বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা”-কে এঘটনার জন্য দায়ী করেছেন। “বিচারহীনতা, বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা”-র বিষয়টি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান, সাবেক উপদেস্টা সুলতানা কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকসহ বহু বিচারপ্রার্থীর বক্তব্যেই কথাটি(“বিচারহীনতা, বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা”) এসেছে।

চট্টগ্রামে ১৯বছর পূর্বে করা একটি হত্যা মামলা হাইকোর্টেই ১২বছর স্থগিতাবস্থায় পড়ে ছিল! নিহতের মা, মামলার বাদী ১৫বছর পূর্বেই মৃত, মামলা জীবিত। ১২বছর হাইকোর্টে স্থগিতাবস্থায় পড়ে থাকবে কেন? কার দুর্নীতি, দায়িত্ব-কর্তব্যে অবহেলার জন্য এটা হয়েছে আমরা জানিনা। তবে এর দায় রাস্ট্র তথা বিচার বিভাগের। বিচার বিভাগের যার বা যাদের দুর্নীতি, দায়িত্ব-কর্তব্যে অবহেলার জন্য এটা হয়ে থাকুকনা কেন, বিচার বিভাগের অধীনে থেকেই দেশে সবচেয়ে বেশী মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা ঘটছে। বিচারহীনতার কারনে মানুষ গনপিটুনী, তথাকথিত “বন্দুক যুদ্ধ বা ক্রশফায়ার”-এর আশ্রয় নিচ্ছে। গনপিটুনী, তথাকথিত “বন্দুক যুদ্ধ বা ক্রশফায়ার” অন্যায়, অবৈধ হলেও, তাতো আর থেমে নেই।

এনবিআর কর্তৃক যমুনার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জিডি-এর বিষয়ে ১০-১২-২০১৫তাং প্রতিবাদসূচক প্রতিবেদন থেকে দেখা যায় যে,  রিট নং ৩০২৭/২০০৩ ৩০২৮/২০০৩ উচ্চ আদালতে বিচারাধীন আছে। উপরের হত্যা মামলা ও রিটসহ লাখ লাখ রিট-মামলা যে, কারও কারও ইন্টারেস্টে যুগ যুগ স্থগিত হয়ে পড়ে আছে, এবং এসব যে আদালতেরই কারও কারও ইন্টারেস্টে ও সহযোগিতায় হচ্ছে, সেটা বুঝার ক্ষমতা ফকিরনীরও আছে। এগুলোর পরে কি লাখ লাখ রিট-মামলা নিষ্পত্তি হয়নি? এভাবে “বিচার বহির্ভূত”-এর চেয়ে “বিচার অন্তর্ভুক্ত”-এর মাধ্যমে লাখ লাখ দুর্নীতি ও মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা ঘটছে।

Related posts