বাসস্থান এবং বাসস্থান নির্মানের ভূমি

অনেকের মধ্যেই একটি সাধারন ধারনা যে, ঢাকায় বাসস্থান নির্মানের ভূমির অভাব। অনেকেই বাসস্থান ও বাসস্থান নির্মানের ভূমির অভাবকে এক করে ফেলেন। ঢাকায় বাসস্থানের অভাব সত্য, কিন্তু বাসস্থান নির্মানের ভূমির অভাব নাই। DAP তথা রাজউকের ১৫২৮ বর্গ কিলোমিটার এলাকার বর্তমান ঢাকা সিটির প্রায় ৩০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা(ধরি ৩২৮ বর্গ কিলোমিটার ) এলাকা বাদ দিলে অবশিষ্ট ১২০০ বর্গ কিলোমিটার ভূমির ১০% ভূমি বাসস্থানের জন্য ব্যবহার করলে রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারী-বেসরকারী দপ্তর, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান/উপাসনালয়, খেলার মাঠসহ সকল ওপেন স্পেস, ইত্যাদি সবকিছু নির্মানের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমি রেখে এবং নীচু, জলাভূমি, কৃষিজমি, ফিশারীজ, প্রাকৃতিক জলাধার,  বৃষ্টিরপানি ধারক/পরিবাহক, বণ্যা প্রবাহ এলাকা, ইত্যাদি শ্রেণীর ভূমি অক্ষুন্ন রেখে, ১২০০ বর্গ কিলোমিটারের ১০%=১২০বঃকিঃমিঃ =১৭,৭৮,৪০০কাঠা =প্রতিটি গড়ে ৫কাঠা হিসাবে ৩,৫৫,৬৮০টি প্লট, প্রতি প্লটে বিল্ডিংয়ের আয়তন প্রায় ৩৬০০বর্গফুট। ৩,৫৫,৬৮০টি প্লটXপ্রতি প্লটে গড়ে ১০তলা বিল্ডিংXপ্রতি ফ্লোরে গড়ে ১২০০বর্গফুটের ৩টি ফ্ল্যাটXপ্রতি ফ্ল্যাটে গড়ে ৬জন হিসাবে=মোট ৬কোটি ৪০লাখ(ধরি, ৬কোটি)লোকের বিলাসবহুলভাবে বসবাসের উপযোগী(with all amenities) ভূমি আছে। বাসস্থানের ভূমির অভাবের অজুহাত, লাখ লাখ শ্রমিকের বেকারত্বের অজুহাত, ইত্যাদি নানা অজুহাতে ঢাকা শহর/জেলা/বিভাগের কোটি কোটি লোকের জীবন কেয়ামৎ পর্যন্ত বিপর্যস্ত করার স্থায়ী ব্যবস্থা করিতেছে।  এখানে সেটব্যাক বা বিল্ডিংয়ের চারিপার্শ্বের খালি যায়গা এবং FAR(floor area ratio) ধরা হয়নি। কারন এসব বিল্ডিং পূরো ১২০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকবে, যেখানে ১০-২০-৩০কাঠা বা তারও বড় যায়গায় ১টি বা ২টি বিল্ডিং হবে। সেটব্যাক বা ফাঁকা যায়গা ধরা হয় বায়ূ চলাচলের সুবিধা ও সবুজ গাছ-গাছড়ার জন্য, আর FAR(floor area ratio) ধরা হয় কোন বিল্ডিং বা এলাকার জনসংখ্যা সীমিত রেখে যানবাহন সীমিত রাখা বা যানজট কমানোর জন্য।  পূরো ১৫২৮ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় উন্নত রাস্তা-ঘাট, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, ইত্যাদি অবকাঠামো তৈরী করা হলে/তৈরী থাকলে মানুষ কিভাবে তার বাড়ীঘর করবে সেটা তাদের ব্যাপার।  পূরো ১৫২৮ বর্গ কিলোমিটার এলাকা আধুনিক বা উন্নত গ্রাম হয়ে যাবে, কিন্তু শহরের সকল সুযোগ সুবিধা থাকবে। গ্রামের বিল্ডিংয়ে সেটব্যাক এবং FAR-এর বালাই নেই। বিগত ১০-১৫বছরে বাংলাদেশের কয়েক হাজার গ্রাম আধুনিক শহরের মত হয়ে গেছে। সেখানেতো land developer/real estate ব্যবসায়ীরা কোন আবাসিক প্রকল্প তৈরী করেনি।

BLDA/REHAB-এর তথ্যমতে ইতিমধ্যে ৩লাখ প্লট বিক্রী হইয়াছে। রাজউকেরসহ প্রায় ৪লাখ প্লট। এসকল প্লট নিশ্চয়ই রাস্তা ঘাটসহ সকল আধুনিক সুযোগ সুবিধা সমৃদ্ধ(with all amenities)। ৪লাখ প্লটXপ্রতি প্লটে গড়ে ১০তলা বিল্ডিংXপ্রতি তলায় গড়ে ৩টি ফ্ল্যাটXপ্রতি ফ্ল্যাটে গড়ে ৬জন=৭কোটি ২০লাখ লোক বসবাস করার প্লট রেডী আছে। Ancillaryসহ ৮(আট)কোটি লোকের বসবাসের উপযোগী(with all amenities) ভূমি আছে। তাহলে পরিবেশের ক্ষতি করে ১০০% উম্মুক্ত গভীর জলাভূমি, প্রাকৃতিক জলাধার ভরাট করার প্রয়োজন কেন?

বিলিয়ন বিলিয়ন টাকার সম্পদ থাকা সত্বেও ঢাকা শহর/জেলা/বিভাগের কোটি কোটি লোকের জীবন বিপন্ন করিতেছে।ঝকঝকে তকতকে আবাসিক এলাকার আড়ালে ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কাজে তাদের(Private land developer)সবটুকুই দুর্নীতি।

এই ১০%-৩০% ভূমি DAP তথা রাজউকের ১৫২৮ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সিলেট-সুনামগঞ্জ-মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জের লন্ডনীরা হাওরে-বিলের ধারে এবং সারাদেশের দুবাইওয়ালারা গ্রামে-গঞ্জে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বিলাসবহুল বিল্ডিং নির্মান করেছে, এখনও করছে। একইভাবে যাদের টাকা আছে, তারা DAP তথা রাজউকের ১৫২৮ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এখনই বাড়ী করার উপযোগী ভূমি বেছে নিয়ে বাড়ী নির্মান করবে। যদি কেউ না পারে না পারুক। তাই বলে তথাকথিত আবাসন ব্যবস্থার কথা বলে শত শত বর্গ কিলোমিটার এলাকার ১০০% উম্মুক্ত গভীর জলাভূমি, প্রাকৃতিক জলাধার Rigidly-solidly ভরাট করতে হবে কেন?

পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তাদের জন্য ৫০একর করে যায়গা বরাদ্ধ দেওয়া হয়। এরূপ ৫০একর করে যায়গা নিয়ে আবাসিক এলাকা করলে ১০০% উম্মুক্ত গভীর জলাভূমি, প্রাকৃতিক জলাধার Rigidly-solidly ভরাট করতে হবেনা। এতে আবাসন বিকেন্দ্রীকরন হবে, একই এলাকায় বেশী মানুষের বসবাস না হলে যানজট হবেনা, ঘনবসতি হবেনা, কোলাহল কম হবে। খিলক্ষেত এলাকায় কনকর্ডের লেকসিটি, শ্যামলীতে জাপান গার্ডেন সিটি, মিরপুরে বিজয় রাকিন সিটি, ইত্যাদির মত ১০-২০- ৫০-১০০একরের সিটি নির্মান করা যায়। এতে ১০০% উম্মুক্ত গভীর জলাভূমি, প্রাকৃতিক জলাধার Rigidly-solidly ভরাট করতে হবেনা।

ইন্দোনেশিয়াসহ পৃথিবীর বহু দেশ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপের সমন্বয়ে সৃষ্ট। সেসব প্রতিটি দ্বীপে কয়েক হাজার বা কয়েকলাখ লোকের শহুরে সকল আধুনিক সুযোগ সুবিধা নিয়ে বসবাস। রাজউকের ১৫২৮ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় কোন দ্বীপ নেই। বরং উন্নত স্থলভাগ নিয়ে গঠিত। প্রয়োজন আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা তথা রাস্তা-ঘাট। দ্বীপ না হলেও দ্বীপের মত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র(পুলিশ, প্রশাসন, কনকর্ড লেকসিটির ন্যায়) সিটির ন্যায় Cluster city-র আবাসিক ব্যবস্থা গড়াই হবে সরকারী ও বেসরকারী land developerদের কাজ।

উন্নত রাস্তা-ঘাট, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, ইত্যাদি অবকাঠামো তৈরী করা হলে/তৈরী থাকলে ইউরোপ-আমেরিকার গ্রামের মত মানুষ রাজউকের ১৫২৮ বর্গ কিলোমিটার এলাকার ভিতরে/বাইরে বাড়ীঘর, স্কুল কলেজ, কলকারখানা, ইত্যাদি নির্মান করবে।

কিন্তু বাড়ীঘর নির্মানের জন্য land developer/real estate ব্যবসায়ীদের কর্তৃক এ মুহুর্ত থেকে আর এক বিন্দু নীচু ভূমি ভরাট করার কোন প্রয়োজন নেই।

Related posts