রাজউক যখন দুর্নীতিবান্ধব

 

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের(রাজউক) কিছু কর্মকর্তা শুধু নিজেরাই দুর্নীতি করেনা, অপরকেও দুর্নীতি করিতে সহায়তা করে। অনেকটা “ভাড়ায় খাটা”-র মত।ইস্টার্ন হাউজিং ইতিমধ্যে পুকুর সমান নহে, বরং সাগর সমান দুর্নীতি, সরকারী জমি(খাস), বেসরকারী জমি জবরদখল করে ফেলেছে। তার উপর আরও জবর দখলের জন্য রাজউক কর্মকর্তার সহায়তা নেওয়ার চেষ্টা করে।

http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/471679/ রাজউক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

একটি আবাসন কোম্পানির স্বার্থ রক্ষায় ভূমির প্রকৃত মালিককে ছাড়পত্র না দেওয়ার অভিযোগে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) উপনগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফ আলী আখন্দসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল রোববার রাজধানীর মতিঝিল থানায় মামলাটি করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রফিকুল ইসলাম।
দুদক সুত্র জানিয়েছে, হারুন অর রশিদ নামের এক ব্যক্তির আমমোক্তার বুড়িগঙ্গা রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলমগীর হোসেন। তিনি দুদকে অভিযোগ করেন, জমিতে ইমারত নির্মাণের সব শর্ত ও জমিসংক্রান্ত সব কাগজপত্র সঠিক এবং জমিটি অভিযোগকারীর নিজ দখলে থাকা সত্ত্বেও রাজউকের উপনগর পরিকল্পনাবিদ ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র না দিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে হয়রানি করেছেন। এ অভিযোগ আমলে নিয়ে দুদক অনুসন্ধান শুরু করে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, উপনগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফ আলী আখন্দ ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের স্বার্থ রক্ষায় ভূমির প্রকৃত মালিককে ছাড়পত্র দেননি। এ কাজে ইস্টার্ন হাউজিংয়ের প্রতিনিধি হিসেবে ভূমি ছাড়পত্র না দিতে তাঁকে প্রভাবিত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ নির্বাহী পরিচালক নাজিম নওয়াজ চৌধুরী।
গত বৃহস্পতিবার কমিশনের নিয়মিত সভায় এ দুজনের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়।

খিলক্ষেত-ঈসাপুর রোডের ডুমনী এলাকার শুরুতে, পিংক সিটির(Pink city)মাঝখানে প্রায় ১০০ফুট দীর্ঘ একটি সেতু আছে।(ডুমনীতে ৩০০ফুট রাস্তার আন্ডারপাস সংলগ্ন)।এই সেতুই প্রমান করে এখানে উত্তর দক্ষিনে একটি প্রশস্ত পানি প্রবাহ ছিল। এটি সিএস, এসএ, আরএস, বিএস রেকর্ড মোতাবেক খাল হতে পারে নাও হতে পারে। তবে ইহা যে একটি প্রশস্ত পানি প্রবাহ ছিল তা শতাধিক ফুট দীর্ঘ সেতুটিই প্রমান করে। রাজউক কর্মকর্তারা এই সেতু বরাবর কুড়িল-পূর্বাচল ৩০০ফুট রাস্তায় কোন সেতু না রেখে একটি বক্স কালভার্টের ব্যবস্থা রাখে। যদিও এই বক্স কালভার্টের মাধ্যমে পানি প্রবাহের কোন ব্যবস্থা নাই। কেননা উজানে(উত্তর প্রান্তে) বসুন্ধরা গ্রুপ পুরো ভরাট করে ফেলে।(যায়গাটিকে বসুন্ধরা গ্রুপ ভরাট করলেও বর্তমানে সেখানে যমুনা গ্রুপের সাইনবোর্ড)। ভাটিতে(দক্ষিন প্রান্তে) আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের মালীক আলহাজ্জ এনামুল হক ও তাঁর স্ত্রী প্রশস্ত পানি প্রবাহটির প্রায় ৯০%ভরাট করে নিজেদের নামে বিরাট কয়েকটি সাইনবোর্ড স্থাপন করেছেন। তারও দক্ষিনে বসুন্ধরা গ্রুপের বারিধারা আবাসিক এলাকা, যা পানি প্রবাহ, প্রাকৃতিক জলাশয়, জলাধার ভরাট করে নির্মিত।

১০০ফুট প্রশস্ত সেতুর পরিবর্তে ৭-৮ফুট প্রশস্ত বক্স কালভার্টের ব্যবস্থা রেখে রাজউক কর্মকর্তারা উভয় পার্শ্বের বিরাট এলাকার পানি প্রবাহ, প্রাকৃতিক জলাশয়, জলাধার ভরাট করার সুযোগ করে দিল। রাজউক কর্মকর্তাদের দুর্নীতির ধরন দেখলে তাদের অনুর্বর মস্তিষ্কের পরিচয় পাওয়া যায়। তারা নতুন বাজার-বালু নদী পর্যন্ত ১০০ফুট মাদানী এভিনিউ-র রাস্তায় ৪টি ব্রীজ নির্মান করে। অথচ কুড়িল-পূর্বাচল ৩০০ফুট রাস্তার বালু নদী পর্যন্ত মাত্র একটি ব্রীজ নির্মান করে। কুড়িল-পূর্বাচল ৩০০ফুট রাস্তার বালু নদী পর্যন্ত সমান্তরাল খিলক্ষেত-ঈসাপুর রোডে ৫টি ব্রীজ আছে। সে হিসাবে উপরের(উজানের) পানি প্রবাহের জন্য কুড়িল-পূর্বাচল ৩০০ফুট রাস্তার বালু নদী পর্যন্ত ন্যুনতম ৪টি ব্রীজ নির্মান করা উচিৎ ছিল। উপরের(উজানের) পূরো  এলাকাটিই এখনও নীচু এলাকা, প্রাকৃতিক জলাশয়, জলাধার। উপরের(উজানের) পানি প্রবাহই যদি না থাকে তাহলে নীচে(ভাটিতে) নতুন বাজার-বালু নদী পর্যন্ত ১০০ফুট মাদানী এভিনিউ-র রাস্তায় ৪টি ব্রীজের নীচ দিয়ে প্রবাহের জন্য পানি আসবে কোত্থেকে? নানা কৌশলে, সুকৌশলে, কুটকৌশলে, অপকৌশলে রাজউক কর্মকর্তারা উভয় পার্শ্বের বিরাট এলাকার পানি প্রবাহ, প্রাকৃতিক জলাশয়, জলাধার ভরাট করার সুযোগ করে দিল।

Related posts