সম্পাদকীয়-মাননীয় প্রধান বিচারপতি ও দুদক চেয়ারম্যান মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষন

 

দুদকের মাননীয় চেয়ারম্যানকে লিখা ২টি খোলা চিঠির সূত্রে অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায় যে, সিলেটের বিভাগীয় স্পেশালজজ কোর্ট থেকে transferred, বর্তমানে জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল সিলেটে বিচারাধীন স্পেশাল মামলা নং-২১/০৯ ও ২৩/০৯ এর বিচারের সাথে জড়িত জেলাজজ পদমর্যাদার ৪জন বিচারকের standard, সততা/অসততা কত below হতে পারে, তা মামলার নথি না দেখলে কেহ কল্পনাই করতে পারবেনা। তারা আর্থিকভাবেই দুর্নীতিবাজ নহে, এটা করতে গিয়ে মাননীয় প্রধান বিচারপতি তথা মাননীয় উচ্চ আদালতের আইন কানুন, আদেশ নির্দেশের কোন তোয়াক্বাই তারা করেনি। তারা ভয়ানক অমানবিকতা, নির্মম নিষ্ঠুরতার পরিচয় দিয়েছে এখনও দিচ্ছে। এটা পূরো বিচার বিভাগের ভাবমূর্তির বিষয় বলে আমরা মনে করি, যার সাথে দেশের স্বার্থ ও বিচারপ্রার্থীদের পারিবারিক ও সামাজিক মান মর্যাদা জড়িত।

মামলাগুলো অনুসন্ধান ও তদন্তের সময় দুদক কর্মকর্তা কর্মচারীদের প্রকাশ্য দুর্নীতি দুদকের অভ্যন্তরীন তদন্তে প্রমানিত হয় এবং তাদের  চাকুরীচ্যুতিসহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তি হয়। দুদক কর্মকর্তা কর্মচারী ও বিচারকসহ বিচারালয়ের দুর্নীতিবাজদের দ্বারা গঠিত সিন্ডিকেটের দুর্নীতির কারন ছাড়া উপরোক্ত দুটি মামলাসহ আরো কয়েক হাজার দুর্নীতির মামলা নিষ্পত্তিতে বিলম্বের কোন কারন আমরা দেখিনা। মামলা ২টি ৭(সাত) মাসেই নিষ্পত্তি সম্ভব ছিল। কিন্তু ৭(সাত) বছরেও নিষ্পত্তি না হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, নিম্ন আদালতে সৎ বিচারকের এতই অভাব?

২০০৯সাল থেকে আমরা নিম্ন আদালতের দুর্নীতি ও মামলাজটের কারন নিয়ে গবেষনা করে আসছি। নিম্ন আদালতে প্রচুর লজিস্টিক সাপোর্টের অভাব আছে। কিন্তু জেলাজজ পদমর্যাদার বিচারকদের ১০০% লজিস্টিক সাপোর্ট থাকা সত্বেও এবং স্বাক্ষী হাজিরের কোন জটিলতা বা প্রতিবন্ধকতা না থাকা সত্বেও, উকিলের উপস্থিতি সত্বেও জজরা বৃহস্পতিবার, রবিবার এজলাস করেননা, অন্যান্য দিন ২০-৩০মিনিটের বেশী এজলাস করেননা। এভাবেই প্রমানিত হয়েছে যে, নিম্ন আদালতের দুর্নীতি ও মামলাজটের জন্য প্রধানতঃ(একমাত্র নহে) বিচারকরাই(সকল বিচারক নহে) দায়ী।

বিচারাধীন বিষয় নিয়ে ভারতীয় সুপ্রীমকোর্ট বলেছেন-http://archive.prothom-alo.com/detail/news/288709বিচারাধীন মামলার সংবাদ প্রকাশে বিধি নিষেধ নয়বিচারাধীন মামলার সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের জন্য নির্দেশাবলি প্রণয়নের বিষয়টি নাকচ করেছেন ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। গতকাল মঙ্গলবার(১১-৯-২০১২)ভারতের সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ এ মত দিয়েছেন।

 

আদালতের কর্তৃত্ব মতপ্রকাশের স্বাধীনতাhttp://www.jugantor.com/old/sub-editorial/2015/06/27/285116 নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে নাগরিকরা আদালত অবমাননা প্রসঙ্গে লর্ড আলফ্রেড ডেনিং-এর একটি বিখ্যাত উক্তি পেশ করেছিলেন। বিচারক লর্ড ডেনিং সম্পর্কে বলা হয়, গত শতাব্দীতে তার সমান মাপের বিচারক বিলাতে জন্মগ্রহণ করেনি। লর্ড ডেনিং শুধু পিপলস জাজ বা গণমানুষের বিচারক ছিলেন না, বিচারব্যবস্থার ভাবমূর্তি, মর্যাদা ও কর্তৃত্ব রক্ষা করার ক্ষেত্রে তার আদর্শ অতুলনীয়। সেই উক্তির সারকথা হচ্ছে, বিচার বিভাগের চরিত্রের কারণে বিচারকরা তাদের কর্মকাণ্ড বা রায়ের সমালোচনার উত্তর দিতে পারেন না। সমাজে কোনো তর্ক তৈরি করা থেকে তাদের বিরত থাকতে হবে। আর তাদের রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িয়ে পড়ার তো প্রশ্নই আসে না। বিচারকরা তাদের আচরণের মধ্য দিয়েই সব সমালোচনার জবাব দিয়ে থাকেন। আদালতকে মনে রাখতে হবে, বিচার করতে গিয়ে আদালতের ভেতরে কিংবা বাইরে কে কী বলল না বলল সেসবের ক্ষেত্রে চুপ থাকাই শ্রেয়। সেটাও একটা অপশন। লর্ড ডেনিং বলছেন :

‘Let me say at once that we will never use this jurisdiction as a means to uphold our own dignity that must rest on surer foundations. Nor will we use it to suppress those who speak against us. We will not fear criticism, nor do we resent it. For there is something far more important at stake, it is no less than freedom of speech itself.’ অর্থাৎ বিচারকদের সমালোচনা হোক, তাতে ভীত হওয়ার কিছু নেই, প্রতিবাদ করারও কিছু নেই। কিন্তু বিচারকরা কখনোই তাদের ক্ষমতাকে নিজেদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করবেন না। কারণ তার চেয়েও আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়ে গেছে, যা বিচারকের মর্যাদার চেয়েও কোনো অংশে কম নয়। আর সেটা হচ্ছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা।

 

উপরোল্লিখিত মামলা ২টি আমাদের গবেষনার মাইলফলক। কেননা এ দুটি দ্বারা নিম্ন আদালতের বিচারকদের সম্পর্কে সাবেক ও বর্তমান মাননীয় প্রধান বিচারপতিদের সকল অভিযোগ, যেমন তোলা/ঘুষ খাওয়া, অল্প সময় এজলাস করা, বৃহস্পতি-রবিবার দপ্তরে অনুপস্থিত থাকা বা দেরীতে উপস্থিত হওয়া, পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট যেমন পেশকারদের চাতুরী, জারিকারকদের জারীঝুরি, ইত্যাদি সবকিছুই প্রমানিত হয়েছে।

Related posts