আরও ৭৬ হাজার কোটি টাকা পাচার

২০১৩সালে বাংলাদেশ থেকে  ৭৬ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে।(২০১৪, ২০১৫তো রয়েই গেছে)।এ টাকা কালো টাকা। যারা পেরেছে তারা পাচার করেছে, যারা পাচার করতে পারেনি তাদের টাকা দেশেই আছে। একালো টাকার পরিমান অন্ততঃ পাচারকৃত টাকার ১০গুন বা সাড়ে ৭লাখ কোটি টাকা।

সবাই আমদানী রপ্তানীর সাথে জড়িত নহে। তাই অন্যসব টাকা আন্ডার-ওভার ইনভয়েসিং-এর মাধ্যমে পাচার সম্ভব নহে। এক্ষেত্রে হুন্ডি/স্বর্ন টাকা পাচারের অন্যতম প্রক্রিয়া, যার কোন রেকর্ড নাই বা থাকেনা।

Global financial integrity(GFI)-এর ডাটায় স্থানীয় সেবাখাত বা এরূপ কোন খাতের ঘুষ জাতীয় লেনদেন অন্তর্ভুক্ত নহে। তবে তারা বলেছে টাকা পাচারে ব্যবসায়ীর সাথে দুর্নীতিবাজ সরকারী কর্মকর্তাও আছে। টাকা পাচারে দুর্নীতিবাজ সরকারী কর্মকর্তা থাকলে(যদি থাকে) স্বয়ংক্রিয়ভাবেই কালো টাকার পরিমান অন্ততঃ পাচারকৃত টাকার ১০গুন বা সাড়ে ৭লাখ কোটি টাকা হবে।

যেমন ব্যতিক্রম ব্যতীত বড় সরকারী কর্মকর্তারাই টাকা পাচার করে বা করবে। যদি সচিব, এমডি, ডিজি, চেয়ারম্যান, প্রধান প্রকৌশলী, পুলিশ কর্মকর্তা, ইত্যাদি হয়ে থাকে তাহলে তাদের প্রত্যেকের সাথে ancillary( সহায়ক, অধীন, অন্তর্ভুক্ত) আছে আরও ৮-১০জন বা তারও বেশী। সাধারনতঃ ancillary-রা বেশী খেয়ে থাকে বা পেয়ে থাকে। কারন এদের মাধ্যমে লেনদেন হয়ে থাকে এবং কিছু কিছু লেনদেনের পরিমান সম্পর্কে বড় সাহেব জানেইনা। যেমন অসৎ বিচারপতি/বিচারকরা বড় বড় কেইসে যদি কোন অবৈধ অর্থ নেয় তা পেশকার, স্টেনো, সেরেস্তাদারের মাধ্যমে নেয় এবং বিচারপ্রার্থীর সাথে বিচারপতি/বিচারকের সরাসরি কোন কথা হয়না। ফলে বিচারপ্রার্থী ১লাখ নাকি ১কোটি দিল তা বিচারপতি/বিচারকের জানার কোন সুযোগ নাই বা তারা জানার চেষ্টা করেওনা। (সৎ বিচারপতি/বিচারকদের প্রতি সম্মান রেখে বলছি)।

অনেক লেনদেন হয় আরও অন্যভাবে। যেমন জাপান কোরিয়ার মত দেশের কোম্পানীরা সরকারীভাবে কোন ঘুষ দেবেনা। অর্থাৎ তারা রেকর্ডবিহীন নগদ টাকা(অথবা চেকের মাধ্যমে) কোন ঘুষ দেবেনা। কিন্তু চীন রাশিয়ার কোম্পানীরা সরকারীভাবে ঘুষ দেয়। এ ঘুষ তাদের নিজেদের দেশে এবং অথবা অনেকসময় ৩য় কোন দেশ যেমন হংকং, সিঙ্গাপুর এরূপ কোন দেশে ব্যাংকিং চ্যানেলে অথবা নগদে দেওয়া হয়। কিছু আন্তর্জাতিক ব্যাংক আছে, যারা এসব লেনদেনে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে, মোটা কমিশনের বিনিময়ে মূখ্য ভূমিকা পালন করে।

মন্ত্রনালয়ের কিছু কর্মকর্তা আছে, যারা বিদেশ ভ্রমন করে মূলত বড় সাহেবদের জন্য পার্সেন্টেজ/কমিশনের নেগোসিয়েসন/বার্গেইনিং ও নিরাপদে লেনদেন করার জন্য। কোন সচিব বা মন্ত্রীর জন্য যদি এক কোটি হয়, সেখানে অন্ততঃ ৫০-১০০কোটি টাকা অবৈধ লেনদেনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। Ancillary-রা নেবে ১০-২০কোটি, দেশী বা বিদেশী ঠিকাদার অবশ্যই ৪০-৮০কোটির সুবিধা আদায় করেই বা সে সুযোগ confirm করেই ১০-২০কোটি টাকা দিবে বা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিবে।

ছোট বড় প্রকল্পগুলোতে চীন, রাশিয়ার আধিপত্যের মূল কারন, ব্রিটিশরা যেমন জানত, তারাও(চীন, রাশিয়া) জানে যে, বাংলাদেশীদেরকে অতি অল্পতেই কেনা যাবে, তাই যতগুন আদায় করা যায়। এভাবেও লাখ লাখ কোটি টাকা চলে যাচ্ছে।

Related posts