সম্পাদকীয় – মাননীয় দুদক চেয়ারম্যান-এর দৃষ্টি আকর্ষন

ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৪২ একর খাসজমি আত্মসাতের অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অব্যাহতি দেয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ধীরাজ মালাকার, জ্যেষ্ঠ নির্বাহী পরিচালক (সাপ্লাই চেইন) হাবিবুর রহমান বুলবুলসহ সংশ্লিষ্টদের। ২১ এপ্রিল ২০১৫  কঠোর গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে তাদের অব্যাহতি দিয়েছে দুদক। দুদক সূত্র থেকে জানা যায়, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের বনশ্রী/আফতাব নগর প্রকল্পে ৪২.১১ একর খাসজমি দখল করে। বনশ্রী/আফতাব নগর প্রকল্পে বর্তমানে এক কাঠা জমির মূল্য প্রায় কোটি টাকা। সে হিসাবে ৪২.১১ একর জমির মূল্য প্রায় ২৫২৫কোটি টাকা। (যুগান্তরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নিম্নে আমরা পত্রিকার ক্লিপটি যুক্ত করলাম) সূত্রঃ-খাসজমি আত্মসাতের অভিযোগ দুদকে নথিভুক্ত- http://www.jugantor.com/old/last-page/2015/04/24/253506

বেসরকারী আবাসিক প্রকল্পের ভূমি উন্নয়ন বিধিমালা-২০০৪, রিয়েল এস্টেট  উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০, ইত্যাদি কোন আইনে এ ভূমি ইস্টার্ন হাউজিং প্রকল্পের অনুকূলে ছেড়ে দেওয়ার বা তার বিপরীতে এক তৃতীয়াংশ নেওয়ার কোন সুযোগ নেই, একমাত্র সংশ্লিষ্ট সরকারী কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ছাড়া। অবৈধভাবে  এই ভূমি দখল করায় ইস্টার্ন হাউজিং বেশী লাভবান হয়েছে। ইস্টার্ন হাউজিং তার প্রকল্পকে regular, uniform shape-দিতে গিয়ে তাদের(ইস্টার্ন হাউজিং) নিজেদের স্বার্থে অবৈধভাবে খাস জমি দখল করেছে। জনগন বা সরকারের স্বার্থে নহে। তাই বরং যতটুকু যায়গা(৪২.১১ একর) তারা অবৈধভাবে দখল করেছে, তার দ্বিগুন সরকারকে দিলেও তাদের লাভ। তা নাহলে তারা তাদের প্রকল্পকে, প্লটকে regular, uniform shape-দিতে পারতনা। তারা যখন ৪২.১১ একর খাসজমি দখল করে তখন তা ভরাট করতে ৪২.১১ একরX ৬০কাঠাX৭২০বর্গফুট Xগড়ে ১০ফুট গভীর =১,৮১,৯১,৫২০ঘনফুট মাটি/বালির প্রয়োজন ছিল।প্রতি ঘনফুট ড্রেজিংয়ের মাটির মূল্য তৎকালে(২০০০সাল বা তার পূর্বে) ১টাকারও কম ছিল। গনপূর্ত অধিদপ্তরের (PWD) দর তালীকায় ১টাকারও কম ছিল।  সে হিসাবে ১,৮১,৯১,৫২০ঘনফুট বা ৪২.১১একর ভূমি ভরাট করতে সর্বোচ্চ ২কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।  যেহেতু তারা অবৈধভাবে বা অনুমোদনহীন ম্যাপ পূর্ব হতেই তৈরী করে রাখে, সেহেতু মাটি  ভরাট করা মানেই প্লট। বিক্রেতার কাছ থেকে তারা গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, ড্রেনেজ, নিরাপত্তা, ইত্যাদির বহুগুন টাকা নিয়েছে। ফলে মাটি ভরাট মানেই প্লট এবং মাটি ভরাটের বহু পূর্বেই প্লট বিক্রী হয়ে গেছে। তৎকাল(২০০০সালে ও তার পরে) তারা প্রতি কাঠা জমি বিক্রী করেছে ২০লাখ টাকা করে যার বর্তমান বাজার মূল্য কোটি টাকা। সেসময় চারিদিকে পানি আর পানি ছিল। ১৯৮৭ বা তার পরে ব্যক্তি মালীকানার ভূমিগুলো তারা(ইস্টার্ন হাউজিং) বিঘা(২০কাঠা) ১(এক)লাখ টাকারও কম দামে কিনেছে এবং পূর্বোল্লিখিত রেটেই প্রতি ঘনফুট মাটি দ্বারা ভরাট করেছে। অর্থাৎ খাস ও ব্যক্তি মালীকানাধীন জলাভূমি ভরাট করে প্লট আকারের রূপ দিতে তাদের প্রতিকাঠা(৭২০বঃফুটXগড়ে ১০ফুট গভীরXপ্রতি ঘনফুট ১টাকা=৭২০০ টাকা, ধরি ১০,০০০টাকা) গড়ে ২০-৩০হাজার টাকার বেশী পড়েনি (রাস্তার মাটিসহ ও ব্যক্তি মালীকানার ভূমির ক্রয়মূল্যসহ)। ২০-৩০ হাজার টাকার ভূমি তারা তৎকালে ২০-৩০লাখ টাকায় বিক্রী করেছে। তাই তৎকালে তারা ৪২.১১একর ভূমি বিক্রিী করেছে ন্যুনতম(৪২.১১একরX৬০কাঠাXপ্রতি কাঠা গড়ে ২০লাখ)=৫০০কোটি টাকায়(মাটি ভরাট ব্যয় বাদ দিয়ে)। সেময়েই তারা সরকারকে সমপরিমান ভূমি দিলে তাদের ব্যয় হত ৪২.১১একরX৬০কাঠাXপ্রতি কাঠা সর্বোচ্চ ৩০হাজার টাকা(ব্যক্তি মালীকানা থেকে ক্রয় ও ভরাটসহ)=৭.৫০কোটি, ধরি সর্বোচ্চ ১০(দশ)কোটি টাকা।

অর্থাৎ সরকারী খাস যায়গা থেকে তাদের আয় ৫০০কোটি টাকা, ব্যয় সর্বোচ্চ ১০কোটি টাকা। ভরাটকৃত ৪২.১১একর ভূমি দিলেও তাদের ৪৯০-৫০০কোটি টাকা মুনাফা থাকে। তাহলে তারা বেশী নাহোক ৪২.১১একরের বদলে ৪২.১১একর দিবেনা কেন? এটা না দেওয়ার কারন ভূমি মন্ত্রনালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তৎকালীন কর্মকর্তাদের দুর্নীতি।

আমরা আশা করব রাজউক, জেলাপ্রশাসকের দপ্তর, ভূমি মন্ত্রনালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাগন এভূমি উদ্ধার করবেন এবং দুদক সংশ্লিষ্ট দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবে।

যুগান্তর- http://www.jugantor.com/old/last-page/2015/04/24/253506

খাসজমি আত্মসাতের অভিযোগ দুদকে নথিভুক্ত

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০১৫

ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৪২ একর খাসজমি আত্মসাতের অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অব্যাহতি দেয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ধীরাজ মালাকার, জ্যেষ্ঠ নির্বাহী পরিচালক (সাপ্লাই চেইন) হাবিবুর রহমান বুলবুলসহ সংশ্লিষ্টদের। ২১ এপ্রিল কঠোর গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে তাদের অব্যাহতি দিয়েছে দুদক।

দুদক সূত্র জানায়, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের বনশ্রী/আফতাব নগর প্রকল্পে ৪২.১১ একর খাসজমি দখল করে। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো ২০০১ সালে অনুসন্ধান শুরু করে। কমিশন গঠিত হলেও দীর্ঘদিন অনুসন্ধানটি {স্মারক নং-২১০/২০০১ {(টা:ফো:-১)/অ:বি: সেল-৩} পড়েছিল দুদকের অনিষ্পন্ন শাখায়। সম্প্রতি অভিযোগটি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হয়। সর্বশেষ বিষয়টি অনুসন্ধান করেন উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ সামসুল আরেফিন। তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশন অব্যাহতি দেয়। ২১ এপ্রিল অব্যাহতি সংক্রান্ত চিঠি ইস্যু করে দুদক। তবে এ ঘটনা দুদকের অনুসন্ধানের মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে মন্তব্য করেছে পরিবেশ ও মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ।

সূত্রমতে, সরকারের ৪২ একর সম্পত্তি আত্মসাতের বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের খাসজমি-১ অধিশাখা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (প্রশাসন) মো. নাসির উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের এ কমিটি গত বছর ১৬ এপ্রিল তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশে উল্লেখ করা হয়, সরকারের সঙ্গে যে বিনিময় দলিলের মাধ্যমে ইস্টার্ন হাউজিং দখলকৃত সম্পত্তির মালিকানা দাবি করছে সেটি যথার্থ নয়। ইস্টার্ন হাউজিংয়ের আবাসন প্রকল্পের ভেতর থাকা ৪২.১১ একর খাসজমির সঙ্গে তাদের নিজস্ব জমির যে বিনিময় কার্যক্রম সম্পাদন করেছেন সে বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ০৫/০৬/২০০০ তারিখের পত্রের নির্দেশনা থাকলেও প্রকৃতপক্ষে বিদ্যমান আইনে বা পূর্ববৎ কোনো আইনে সরকার কর্তৃক খাসজমি বিনিময়ের কোনো বিধান নেই বা ছিল না। বিনিময় প্রক্রিয়াটি বিদ্যমান কোনো আইন বা বিধি দ্বারা সমর্থিত নয়।

সুপারিশে বলা হয়, যে বিনিময় দলিলের মাধ্যমে ইস্টার্ন হাউজিং সরকারকে ১৭.৮৭২৫ একর জমি প্রদান করেছে তার মধ্যেও অর্পিত সম্পত্তি ও খাসজমি রয়েছে। ইস্টার্ন হাউজিংয়ের রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত জমিও রয়েছে। অর্থাৎ সরকারের খাসজমি ইস্টার্ন হাউজিং দখল করে নিলেও বিনিময়ে সরকারকে দেয়া জমি সরকারকে এখনও বুঝিয়ে দেয়া হয়নি।

সব রেকর্ডপত্র যাচাই-বাছাই করেই দুদক অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে। আপনিও ব্যক্তিগতভাবে ওই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন- জানতে চাইলে ইস্টার্ন হাউজিংয়ের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (সাপ্লাই চেইন) হাবিবুর রহমান বুলবুল বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন দুদক নিশ্চয়ই দেখেছে। সেটি পর্যালোচনা করেই অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে সব প্রশ্নের জবাব রয়েছে।

এদিকে ইস্টার্ন হাউজিংয়ের খাসজমি আত্মসাতের অভিযোগ নথিভুক্ত হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ। এ বিষয়ে জনস্বার্থে পৃথক একটি রিট হয়েছে জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ যুগান্তরকে বলেন, সাধারণ প্রবণতা যেটা, প্রভাবশালী ও অর্থশালী ব্যক্তিরা অনুসন্ধানে প্রভাব বিস্তার করে সুবিধা গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, সরকারি জমি গ্রাসের অভিযোগ নতুন নয়। দুর্নীতিবিরোধী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুদকের কাজই ছিল আত্মসাতের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া। সেটি না করে দুদক দায়িত্ব এড়িয়ে গেছে। এ ঘটনা দুদকের অনুসন্ধানের গুণগত মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

Related posts