জেলাজজ, জঙ্গী ও কাফের

ধর্ম-বর্ন নির্বিশেষে বিচারকের মর্যাদা সবার উপরে। ইসলাম ধর্মে বিচারককে আরও উপরে স্থান দিয়েছে। যেমন বিচারককে আল্লাহর ছায়া বলা হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রীপ্রাপ্তরা বিসিএসের(পূর্বে আইসিএস-সিএসপি-ইপিসিএস) মত অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ন হয়ে বিচারক নিয়োজিত হন। এ বিচারকরা ২০-২৫ বছর বিচারকাজ করে, অনেক অভিজ্ঞতার পর জেলাজজ হন। রাস্ট্রপতি, মন্ত্রী-প্রধান মন্ত্রীরা দেশের অভিভাবক। সর্বনিম্ন হতে সর্বোচ্চ পদের বিচারকরা পৃথিবীতে ন্যায়-নীতির অভিভাবক, ধারক-বাহক। জেলাজজরা তাদের ক্যাডারে ন্যায়-নীতির সর্বোচ্চ  অভিভাবক, ধারক-বাহক।

ধর্ম নিয়ে যারা কাজ করেন, তারাও সমাজের সর্বোচ্চ মর্যাদাবান ব্যক্তি। তাদের কাজ সমাজের সকল ব্যক্তিকে উপাসনা করানোর শিক্ষা ও তাগিদ দেওয়া, ন্যায়নীতির শিক্ষা দেওয়া, অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকার আদেশ উপদেশ দেওয়া। বিচারকদের থেকে ধর্মগুরুদের মর্যাদা ও গুরুত্ব বেশী বই কম নহে। কিন্তু  বিচারকদের মর্যাদা ও গুরুত্ব বেশীর কারন সম্ভবতঃ এজন্য যে, পার্থিব জীবনে একজন বিচারকের ভুল বা অন্যায় বিচারকাজের জন্য একজন মানুষের জেলসহ মৃত্যুদন্ড পর্যন্ত হতে পারে, যা ইসলাম সমর্থন করেনা। এজন্য(ভুল বা অন্যায় বিচারকাজের জন্য) মুসলমান বিচারককে কাফের পর্যন্ত আখ্যায়িত করা হয়েছে।

উপরে বিচারক ও ধর্মগুরুর মর্যাদা, অবস্থান, দায়িত্ব সম্পর্কে অতি সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে। বিশ্বে মুসলমানরা নিজেদেরকে শ্রেষ্ঠ ধর্মাবলম্বী মনে করে, দাবী করে।(সব ধর্মাবলম্বীরাই তাদের ধর্মকে  তাই মনে করে)। এজন্য মুসলমানরা ( আমরাও মুসলমান) ধর্ম নিয়ে যে গবেষনা করে, ধর্মপালন করে, অন্য কোন ধর্মের লোক এত গবেষনা করেনা, পালনও করেনা।

একজন জেলাজজ যদি মুসলমান হন, দাঁড়ি-টুপি পরিহিত, পাঁচ ওয়াক্তের বেশী নামাজ কলেমা পড়ুয়া হন, তাহলে তার মর্যাদা, অবস্থান, দায়িত্ব কি হবে বা হতে পারে তা পাঠকদের উপরই ছেড়ে দিলাম। এরূপ জেলাজজরা যদি দৈনিক সাড়ে ৬(ছয়)ঘন্টার স্থলে আধা ঘন্টাও এজলাসে না বসেন, এবং আধা ঘন্টাও যাতে এজলাসে  বসতে না হয় কৃত্রিমভাবে এরূপ কেইস ম্যানেজমেন্ট করেন, তাহলে তাকে কাফেরের চেয়েও অধম বলা যায়। যে কাফেরের চেয়েও অধম, ইসলাম ধর্মে তাকে চতুষ্পদ জন্তুর সাথে তূলনা করা হয়েছে।

বহু জেলাজজ আছেন যারা মুসলমান, দাঁড়ি-টুপি পরিহিত। তারা পাঁচ ওয়াক্তের বেশী নামাজ পড়েন। পাঁচ ওয়াক্তের বেশী নামাজ পড়েন মানে উভয়পক্ষের উকিল উপস্থিত ও প্রস্তুত থাকা সত্বেও, স্বাক্ষ্যগ্রহন শেষে আর্গুমেন্টের শুনানী মূলতবী রেখে, মাত্র ২০(বিশ)মিনিট এজলাসে বসে, দীর্ঘ ২মাসের ব্যবধানে পরবর্তী তারিখ ফেলে জেলাজজ খাস কামরায় চলে যান। কোর্ট স্টাফের কাছ থেকে জানা যায় যে, তিনি(বিচারক) বেলা সাড়ে ১১টায় নামাজ পড়ছেন। ২মাসের ব্যবধানে পরবর্তী তারিখ ফেলেই তিনি ক্ষান্ত হননি, পরবর্তী তারিখে শুনানী না করে আবার দেড়মাসের ব্যবধানে তারিখ ফেলেন এবং  ঐদিনও ১৫-২০মিনিট এজলাস করেন। এ বিচারকের এটা নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। পূর্নকালীন না হোক, দৈনিক অন্ততঃ ৩-৪ঘন্টা এজলাস করলে সে আরো বেশী সংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি করতে পারত। এতে অপরাধীরা দ্রুত শাস্তি পেত, নিরপরাধীরা অব্যাহতি পেত।

রাস্ট্রীয় কোষাগার থেকে প্রচুর বেতন ও সুযোগ সুবিধা প্রাপ্তি সত্বেও এত অল্প সময় এজলাস করাটাকে তারা মোটেও পাপ বা অপরাধ মনে করেনা। মনে করলেও তারা আরো মনে করে যে, নামাজ পড়লেই সব পাপ বা অপরাধ মাফ হয়ে যাবে এবং তারা (বিচারকরা) বেহেস্তে যাবে। জঙ্গীরাও মনে করে বিধর্মী হত্যা করলে বেহেস্তে যাবে। বিচারক ও জঙ্গীদের দুটি কাজই কুফরী এবং সেজন্য তারা কাফের।

Related posts