নতুন DAP বা  পুরনোটি রিভিউ প্রসঙ্গে

ডিসিসি, পরিবেশ দপ্তর ও রাজউকে ঘুষ লেনদেনের পরিমান বিবেচনা না করে, এদের দুর্নীতির ফলে দেশের বা জনগনের ক্ষতি বিবেচনায় আনলে ইহা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে,  সকল সরকারী দপ্তরের দুর্নীতির ফলে দেশের বা জনগনের যে ক্ষতি হয়, ডিসিসি, পরিবেশ দপ্তর ও রাজউকের দুর্নীতির ফলে তার চেয়ে বেশী ক্ষতি হয়। আবার ডিসিসি, পরিবেশ দপ্তরের দুর্নীতির ফলে ক্ষতির চেয়ে রাজউকের দুর্নীতির দরুন ক্ষতির পরিমান বহুগুন বেশী।

দেশের সকল ভূমি দস্যুর দ্বারা যে পরিমান ক্ষতি, বসুন্ধরার একক দস্যুতায় ক্ষতি তার চেয়ে বহুগুন বেশী। গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী যার সাথে সরাসরি রাজউক ও বসুন্ধরা জড়িত। ড্যাপ রিভিউ করার পূর্বে দয়া করে নীচের বিষয়গুলো অনুগ্রহপূর্বক বিবেচনা করবেন বলে আমাদের আশা।

*সর্বপ্রথম বিবেচনা করতে হবে যে, প্রকৃতপক্ষেই বাসস্থান নির্মানোপযোগী ভূমির অভাব আছে কিনা? নাকি সঠিক পরিকল্পনার অভাব? স্থায়ীঅস্থায়ী বাসিন্দাদের অর্থের অভাব?

১।রাজউক এবং বেসরকারী ল্যান্ড ডেভেলপাররা আবাসন সংকটের দোহাই দিয়ে যেভাবে জলাধার, কৃষি, মৎস্য, বণ্যাপ্রবন ভূমি, ইত্যাদি ভরাট করছে, তা আদৌ সঠিক নহে।

(ক)।ড্যাপ তথা রাজউকের ৫৯০বর্গমাইল বা ১৫২৮বর্গকিলোমিটারের “Metro Dhaka”- (Vide:- DAP final report, group-A, section-1.9.3. The DMDP Structure Plan provides a long-term strategy for the 20 years (1995 to 2015) for the development of the greater Dhaka sub-region. For the purposes of these plans and reports, the term “Metro Dhaka” refers to the 590 square miles. ) জোনিংয়ের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ২০% থেকে ৭০%(including rural homesdtead, mixed use, it is about 80%)পর্যন্ত ভূমিকে urban residential land(with all amenities) হিসাবে ব্যবহারের সুপারিশ করা হইয়াছে। রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারী-বেসরকারী দপ্তর, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান/উপাসনালয়, খেলার মাঠসহ সকল ওপেন স্পেস, ইত্যাদি সবকিছু নির্মানের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমি রেখে এবং নীচু, জলাভূমি, কৃষিজমি, ফিশারীজ, প্রাকৃতিক জলাধার,  বৃষ্টিরপানি ধারক/পরিবাহক, বণ্যা প্রবাহ এলাকা, ইত্যাদি শ্রেণীর ভূমি অক্ষুন্ন রেখে, অবশিষ্ট ভূমি, যাহা এখনই বাড়ী নির্মানের উপযোগী, এরূপ ২০% থেকে ৭০% ভূমির গড়, ন্যুনতম ৪০% ভূমি। “Metro Dhaka”- ৪০% থেকে আরও ১০% ছাড় দিয়ে আমরা যদি ৩০% ভূমিও urban residential land(with all amenities) হিসাবে ব্যবহার করি, তাহলে ১৫২৮বর্গকিলোমিটারের ৩০%  =৪৫৮বঃকিঃমিঃ =১,১৩,০০০ একর =৬৭লাখ ৯৩হাজার কাঠা =প্রতিটি গড়ে ৬কাঠা হিসাবে প্রায় ১১লাখ ৩২হাজার প্লট। গড়ে দেড়কাঠা সেটব্যাক ও কমনস্পেস ধরলে প্রতি প্লটে বিল্ডিংয়ের নেট আয়তন প্রায় সাড়ে চার কাঠা= প্রায় ৩৩০০বর্গফুট। ১১লাখ ৩২হাজার প্লট X প্রতি প্লটে গড়ে ১০তলা বিল্ডিং X প্রতি ফ্লোরে গড়ে ১১০০বর্গফুটের(১হাজার, ১১শ’,১২শ’ বর্গফুটের) ৩টি ফ্ল্যাট X প্রতি ফ্ল্যাটে গড়ে ৬জন হিসাবে=মোট ২০কোটি ৩৭লাখ ৬০হাজার লোকের বসবাসের উপযোগী(with all amenities) ভূমি আছে।

(খ)।উপরের (ক) হইতে দেখা যায় যে, প্রাকৃতিকভাবে পূর্ব হইতেই যে পরিমান উঁচুভূমি, যাহা এখনই বাড়ী করার উপযোগী, ঢাকা শহরে(রাজউক তথা সরকার কর্তৃক ঘোষিত ১৫২৮বর্গকিলোমিটার(৫৯০বর্গমাইল) মেট্রোপলিটন এলাকায় আছে তাহাতে আগামী  শত বছরেও বাড়ী নির্মানের জন্য অতিরিক্ত আর এক কাঠা জলাভূমি ভরাটের  কোন প্রয়োজন হবেনা।

২।360 eM©wK‡jvwgUvi(সূত্র:-“evm‡hvM¨Zv nviv‡”Q XvKv”  †fv‡ii KvMR : 06/04/2014)  AvqZ‡bi  ivRavbx XvKvয় সিটি করপোরেশনের হিসাব মতে স্থায়ী লোকসংখ্যা ৭০ লাখ। অস্থায়ী বাসিন্দা ও প্রতিদিন যাতায়াতকারী মানুষসহ নগরীর মোট জনসংখ্যা দেড় কোটির ওপরে(সূত্র:-ইত্তেফাক:-০৪-৪-১৪,“রাজধানীর অর্ধেক আবর্জনাই থেকে যায় রাস্তায়”)। Center for Urban Studies (CUS, 2006)-এর হিসাবমতে ঢাকার ৪০%লোক অর্থাৎ দেড়কোটির ৪০%= প্রায় ৬০লক্ষ লোক বস্তিতে বাস করে বা করবে, যাহা তাহাদের নিজস্ব খরিদা বা মালীকীয় ভূমি নহে। এক  কথায়, দেড়কোটির প্রায় ৮০লক্ষ লোক ভাসমান অর্থাৎ অস্থায়ী বাসিন্দা, যাদের প্রায় ৬০লক্ষ লোক বস্তিতে বাস করে। এই হিসাবে ৩৬০বঃকিঃমিঃ আয়তনের ঢাকার প্রকৃত জনসংখ্যা ৭০লক্ষ এবং প্রকৃত ঘনত্ব প্রায় ৭৯জন প্রতি একরে। প্রতি একরে ৩০০জন (আন্তর্জাতিকমান-UNCHS standard) হিসাবে ৩৬০বঃকিঃমিঃ আয়তনের ঢাকায় আরও[(৩০০-৭৯)X ৩৬০বঃকিঃমিঃXপ্রতি বঃকিঃমিঃ ২৪৭একর] প্রায় ২কোটি লোক বসবাস(with all amenities) করতে পারবে।অর্থাৎ বর্তমান স্থায়ী লোকসংখ্যাসহ প্রায় পৌনে ৩কোটি।

৩।পরিকল্পিত জাপান গার্ডেন সিটি, লেকসিটি কনকর্ড, টুইনটাওয়ার্স কনকর্ড, সিডিএ স্কয়ার, ইত্যাদি আধুনিক হাইরাইজ(২০-২৫তলা)বিল্ডিংয়ে প্রতি একরে ১-২হাজার লোক বসবাস করছে(with all amenities)। আমরা যদি ৩৬০বঃকিঃমিঃ-এর অর্ধেক ভূমি রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারী-বেসরকারী দপ্তর, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান/উপাসনালয়, খেলার মাঠসহ সকল ওপেন স্পেস, ইত্যাদি সবকিছু হিসাবে ধরি এবং বাকী অর্ধেক আবাসিক হিসাবে গন্য করি এবং এই আবাসনে জনসংখ্যার নেট ঘনত্ব  ১হাজার জন/একর বিবেচনা করি, তাহলে ১৮০বঃকিঃমিঃXপ্রতি বঃকিঃমিঃ ২৪৭একর Xপ্রতি একরে ১০০০জন=৪,৪৪,৬০,০০০ বা প্রায় সাড়ে চার কোটি লোকের সর্বাধুনিকভাবে(with all amenities) বসবাসের উপযোগী ভূমি ৩৬০বঃকিঃমিঃ আয়তনের ঢাকায় আছে।

৪।চট্টগ্রামে সিডিএ ১.৩৭একরে ২০-২৫তলার বিল্ডিংয়ে ১৯৬টি ফ্ল্যাট নির্মান করছে(সূত্র:-সমকাল:-০৯-৪-১৪:-“৩২মাসের প্রকল্পে টেন্ডার হয়নি ৩০মাসেও”)।এখানে ancillary serviceসহ প্রায় দেড় হাজার লোক বাস করবে। প্রতি একরে ঘনত্ব প্রায় ১১০০জন। সিডিএ সরকারী প্রতিষ্ঠান এবং চট্টগ্রাম বন্দর নগরী।

৫।১-৪ থেকে আমরা দেখতে পাই যে, ৫৯০বর্গমাইল বা ১৫২৮বর্গকিলোমিটারের “Metro Dhaka”- তো নহেই, 360 eM©wK‡jvwgUvi AvqZ‡bi  ivRavbx XvKvয়ও আগামী শত বছরে বাসস্থান নির্মানোপযোগী ভূমির কোন অভাব নাই।জনসংখ্যা বৃদ্ধির বর্তমান হার(সঠিক পরিকল্পনার সাহায্যে যা ভবিষ্যতে আরও কমতে পারে) হিসাবে ৫৯০বর্গমাইল বা ১৫২৮বর্গকিলোমিটারের “Metro Dhaka”- আগামী শত বছরে লোকসংখ্যা ২০কোটির বেশী হবেনা।

৬।রাজউক এবং বেসরকারী ল্যান্ড ডেভেলপাররা যে আবাসন সংকটের কথা বলছে, সে আবাসন সংকট কাদের?

(ক)It has been projected by  Center for Urban Studies (CUS, 2006) by 2015, 40% of Dhaka’s population will live in  Slums.

(খ)রাজউক এবং বেসরকারী ল্যান্ড ডেভেলপাররা কি এই ৪০% বা ৬০লাখ বস্তিবাসীর(দেড় কোটির ৪০%=৬০লাখ)আবাসনের জন্য জলাধার, কৃষি, মৎস্য, বণ্যাপ্রবন ভূমি, ইত্যাদি ভরাট করছে বা তাদেরকে প্লট/ফ্ল্যাট বরাদ্ধ দিয়েছে? না দিয়ে থাকলে আবাসন সমস্যার সমাধান হবে কিভাবে? ঢাকা বিশ্বের নিকৃষ্টতম শহরই থেকে যাচ্ছে।

(গ)।রাজউক এবং বেসরকারী ল্যান্ড ডেভেলপারদের বর্তমান অপপরিকল্পনা অব্যাহত থাকলে ঢাকার বস্তিবাসীর সংখ্যা আরও অনেক বেড়ে যাবে।

৭।(a)আবাসন, (b)আবাসন নির্মানের উপযোগী ভূমি, (c)এই ২টির বা যেকোন ১টির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ-এই ৩টির মধ্যে প্রকৃতপক্ষে কোনটির অভাব?

(ক)এই ৩টির মধ্যে ৩য়টির অর্থাৎ প্রয়োজনীয় অর্থের অভাব।অর্থের অভাব না হলে ৬০লাখ লোক বস্তিতে থাকে বা থাকবে কেন? ৩লক্ষাধিক প্লট বিক্রী হয়ে যায়(সূত্রঃ-যুগান্তর, ০২-৪-১৪, “ড্যাপ সংশোধনে সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নে মতৈক্য”) কিন্তু সাড়ে ২২হাজার ফ্ল্যাট বিক্রী হয়না কেন?(সূত্র:-প্রথম আলো, ২০-৩-১৪, “ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশায়”)।

(খ)গড়ে প্রতিটি প্লট ৫কাঠা হিসাবে ৩লাখ লোক ১৫লাখ কাঠা জমি কিনেছে। বসুন্ধরার প্রতিকাঠা দেড়কোটি টাকা বা তার বেশী দামে বিক্রী হচ্ছে।(সূত্রঃ- বসুন্ধরার মূল্য তালীকা)।ইস্টার্ন হাউজিং বিক্রী করছে আধা কোটি থেকে ১কোটি প্রতি কাঠা। অন্যান্য কোম্পানী আরও কমদামে বিক্রী করছে। সে হিসাবে প্রতি কাঠার ন্যুনতম গড়মূল্য ৫০লাখ টাকা হিসাবে ১৫লাখ কাঠার দাম ৭লাখ ৫০হাজার কোটি টাকা।

(গ)আবাসন সমস্যা হলে ৭লাখ ৫০হাজার কোটি(৭৫০০বিলিয়ন)টাকার প্লট বিক্রী হয়, কিন্তু ২২হাজার কোটি(২২০বিলিয়ন)টাকার তৈরী ফ্ল্যাট বিক্রী হয়না কেন?

৮।ঢাকা পৃথিবীর নিকৃষ্টতম শহরে পরিনত হওয়ার জন্য রাজউক ও বেসরকারী আবাসন কোম্পানীগুলো বহুবিধভাবে দায়ী।রাজউক এবং প্রাইভেট ল্যান্ড ডেভেলপারদের মধ্যে একটি আশ্চর্য মিল হচ্ছে যে, উভয়েই এমনভাবে ল্যান্ড ডেভেলপ করেছে বা হাউজিং প্রকল্প তৈরী করেছে যে, এদের প্রকল্পের আশেপাশে যেসব ব্যক্তি মালীকানাধীন ভূমি আছে, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে এদের(রাজউক এবং প্রাইভেট ল্যান্ড ডেভেলপারদের)বেস্টনীর মধ্যে পড়ে গেছে বা যাচ্ছে।ফলে বেস্টনীর মধ্যকার বিরাট এলাকার ভূমিতে নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্তরা প্রশস্ত রাস্তাঘাটের অভাবে, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্লটে এমন অপরিকল্পিতভাবে বাড়ীঘর নির্মান করছে যে, এসব এলাকা কার্যত গিন্জি এলাকায়/বস্তিতে পরিনত হয়েছে।যেমনঃ-

(ক)ডিএনডি-র বেস্টনীতে রাজউকের গোটা পূর্বাচল, উত্তরা, ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পের চেয়ে বেশী যায়গা আছে বা ছিল।১৯৯৫সালে ডিএনডি-র বেস্টনীতে তেমন স্থাপনা বা বেশী লোকের বসবাস ছিলনা। রাজউক ডিএনডি এলাকাকে  উন্নয়ন না করে পূর্বাচল, উত্তরা, ঝিলমিলকে করছে কেন? বেসরকারী আবাসন কোম্পানীরাও সেটা(ডিএনডি এলাকাকে আবাসিকে উন্নয়ন করা) করে নাই বা এখনও করছেনা কেন?

(খ)।রাজউকের খিলগাঁও পূনর্বাসন এলাকার উত্তরে সিপাহীবাগ, সবুজবাগ, বাসাবো, ইত্যাদি এলাকার পশ্চিমে খিলগাঁও পূনর্বাসন এলাকা, পূর্বে জলাধার, দক্ষিনে কমলাপুর(সরকারী এলাকা), উত্তরে ইস্টার্ন হাউজিংয়ের বনশ্রী প্রকল্প।অর্থাৎ সিপাহীবাগ, সবুজবাগ, বাসাবো, ইত্যাদি এলাকা বেস্টনীর মধ্যে পড়ে গেছে। এই বেস্টনীর দরুন অত্র এলাকা (সিপাহীবাগ, সবুজবাগ, বাসাবো, ইত্যাদি )থেকে বের হওয়ার কোন প্রশস্ত বা বড় রাস্তা নাই।ফলে এই এলাকায় ১/২/৩কাঠায় নিম্নবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্তরা মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসাবে টিনসেড থেকে শুরু করে ১/২/৩তলার বাড়ী/দালান নির্মান করে।অনুরূপ অবস্থা হাতিরঝিলের উত্তরে ও গুলশানের দক্ষিনের বেগুনবাড়ী, আফতাবনগরের উত্তরে ও বাড্ডা ডিআইটি প্রজেক্টের দক্ষিনের আনন্দনগর, বাড্ডা ডিআইটি প্রজেক্টের উত্তরের ও বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের দক্ষিনে, গুলশানের দক্ষিনে ও উত্তরে, ধানমন্ডির পশ্চিমের পশ্চিম ধানমন্ডিসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকার।এসব এলাকা গিন্জি, তবে বাহ্যিকভাবে ঘনবসতি মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে ঘনবসতি নহে। Horizotally expand হলেও সঠিক পরিকল্পনা, যেমনঃ ১/২কাঠায় ছোট ছোট দালান বা টিনসেড করার সুযোগ না দিয়ে, রাজউকের উদ্যোগে অথবা ব্যক্তি উদ্যোগে একাধিক ক্ষুদ্র প্লটকে একত্রিত করে Vertically expand করে অর্থাৎ হাইরাইজ বিল্ডিং করলে বর্তমানে যত লোক বাস করছে, তার ৫০-১০০ গুন বেশী লোক স্বচ্ছন্দে বসবাস করতে পারত। ঢাকায় শতশত উদাহরন আছে যে, কয়েকজনে মিলে একটি ৩/৫/৭কাঠার প্লট কিনে ৬/৮/১০তলার বিল্ডিং তৈরী করে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছে। আবার কয়েকটি প্লটকে একত্রিত করে বহু ডেভেলপার হাইরাইজ বিল্ডিং নির্মান করেছে। উদাহরন হিসাবে বলা যায় শান্তিনগরের কনকর্ড টুইন টাওয়ারের কথা। এখানে ১একরের অনেক কম যায়গায় ২২তলার বিল্ডিংয়ে ১৮০টি আবাসিক ফ্ল্যাটে  প্রায় দেড়হাজার লোক বিলাসবহুলভাবে বসবাস করে।এখানকার অধিবাসীদের মধ্যে এমপি ও সচিব পদমর্যাদার লোকও আছেন।কেন্দ্রীয়ভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ৪তলা মার্কেটসহ Ancillary service-এর আরও প্রায় ৫শ’, একুনে ২হাজার লোক বসবাস করে। যাহা রাজউকের তথাকথিত একরে ৩০০জনের প্রায় ৭গুন বেশী।

(গ)এরূপ অবস্থা সারা ঢাকা শহরের।অর্থাৎ সারা ঢাকা শহরে রাজউক ও বেসরকারী আবাসন কোম্পানীগুলো এরূপ শতশত পকেট সৃষ্টি করে রেখেছে, যেখানে কাঁচা ল্যাট্রিনসহ বস্তির সৃষ্টি হয়েছে এবং এসব বস্তিতে ঢাকার দেড়কোটি মানুষের ৪০%বা ৫০-৬০লাখ লোক বাস করে। এসব বস্তির লোকরাই জীবিকা নির্বাহের জন্য ফুটপাত দখল করে, সেজন্য চাঁদা দিয়ে কয়েকটি অপরাধ সৃষ্টি করে, জনগনের চলাচলে বিঘ্ন ‍ও যানজট সৃষ্টি করে আরও বহুবিধ অপরাদের সৃষ্টি করে। বস্তিগুলো মাদক, সন্ত্রাসী, খুনীসহ অপরাধের সূতিকাগার। আর এসব কিছুর জন্য রাজউক ও বেসরকারী আবাসন কোম্পানীগুলোর অপরিকল্পিত নগরায়ন দায়ী।

(ঘ)।রাজউক ও বেসরকারী আবাসন কোম্পানীগুলো এসব পকেট বা বস্তির উন্নয়ন আগে করবে কিনা? অথবা এসব বস্তির লোককে তাদের(রাজউক ও বেসরকারী আবাসন কোম্পানীর)প্রকল্পে স্থানান্তর করবে কিনা? অথবা বস্তির লোকদেরকে  ঢাকা শহরের Existing বাসিন্দাদের স্থলে পূনর্বাসিত করে Existing বাসিন্দাদের সকলকে রাজউক ও বেসরকারী আবাসন কোম্পানীগুলোর প্রকল্পে স্থানান্তর করবে কিনা? যদি এদুটোর কোনটাই না করে তাহলে তাদের কথিত আবাসন সমস্যার সমাধান কিভাবে হবে?

(ঙ)।১৯৮৭সাল থেকে (বসুন্ধরার বারিধারা ও ইস্টার্ন হাউজিংয়ের বনশ্রী-আফতাবনগরের অনুমোদনকাল)এবং ১৯৯৫সাল থেকে যারা রাজউকের প্লট কিনেছে(৩লক্ষাধিক লোক) এবং এখনও বাড়ী করতে পারেনি, তারা কি বাসস্থানের অভাবে ঢাকার বস্তিতে থাকে?

(চ)।বাসস্থানের অভাবে যারা বস্তিতে থাকে, তারা কি রাজউক ও বেসরকারী আবাসন কোম্পানীগুলোর প্লট কিনেছে বা কিনতে পারবে?

৯।সিলেটের লন্ডনীরা বহু বছর পূর্ব হইতেই সিলেট শহর থেকে ৭০-৮০মাইল দূরে হাওর বিল এলাকায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে প্রাসাদোপম বাড়ী তৈরী করেছে, যেখানে বলতে গেলে তাদের কেয়ারটেকার ছাড়া কেহই থাকেনা।বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে, অজপাড়াগাঁয়ে বিলাস বহুল অট্টালিকা নির্মিত হচ্ছে। ইহা হতে ৩টি বিষয় আমরা জানতে পারিঃ-

(ক)।যাদের টাকা আছে তাদের জন্য বাসস্থান নির্মান কোন সমস্যাই নহে,

(খ)।বসবাসের জন্য ঢাকা শহর বা তার আশেপাশের জলাশয়, খালবিল ভরাট করে বাসস্থান নির্মান করতে হবে, ইহাও নহে।

(গ)।যে বা যারা মূল ঢাকা শহরের, ঢাকা জেলার বাইরে পূর্বাচলে, উত্তরায়, ঝিলমিলে বাসা নির্মান করে বসবাস করবে, তারা ১৫২৮বর্গকিলোমিটার এলাকার যেকোন স্থানেই তা করতে পারে। আর এরূপ ২০কোটির অধিক লোক বসবাস করার মত ভূমি ১৫২৮বর্গকিলোমিটার এলাকায় আছে।বরং এতে সুবিধা বেশী। তথাকথিত স্যাটেলাইট শহরের নামে কয়েকলাখ লোক এক যায়গায় বসবাস করে গিন্জি/বস্তি এলাকা সৃষ্টি করার পরিবর্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পাতলা বসতি অনেক বেশী ভাল হবে।

১০।ওয়েবসাইট হতে প্রাপ্ত বসুধা বিল্ডার্সের বক্তব্য বিশেষভাবে দ্রস্টব্য। “……কোন কোম্পানি সাহায্য না করলেও মানুষ তার নিজের প্রয়োজনেই তৈরী করবে ঘরবাড়ি ……” ইহাই স্বাভাবিক এবং বাস্তব কথা। কিন্তু রাজউক(রাজধানীউন্নয়নকর্তৃপক্ষ) এবং বেসরকারী ডেভেলপাররা রাজধানী কে “উন্নয়ন  না করে বরং দিন দিন রাজধানীকে গিঞ্জি/বস্তিতে বিস্তৃত করছে কেন? যেখানে মানুষ তার নিজের প্রয়োজনেই তৈরী করবে ঘর-বাড়ি, সেখানে রাজধানী কে “উন্নয়ন  না করে মানুষের ঘর-বাড়ি তৈরী করার এত ঠ্যাকা বা দায় রাজউক এবং বেসরকারী ডেভেলপারদের পড়েছে কেন?

১১।দীর্ঘ ১৫বছরের চেষ্টায় ২০১০সালে যে ড্যাপ(Detailed area plan-DAP)প্রস্তুত করা হয়, তার ৪বছর পর এবং এর মেয়াদ মাত্র ১বছর থাকতে ইহা( DAP) সংশোধনের প্রশ্ন আসছে কেন? পূর্বের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে পরবর্তী ২০বছরের জন্য আরেকটি DAP প্রস্তুত করলেই হয়। প্রকৃত পক্ষে DAP সংশোধনের জন্য উঠেপড়ে লেগেছে ভূমিদস্যুরা।কেননা ৪০-৫০ফুট গভীর জলাশয় ভরাট করে দেড়লাখ টাকার(বা তারও অনেক কম)জমি দেড়কোটি টাকায় বিক্রীর জন্য(সূত্রঃ-বসুন্ধরার মূল্য তালীকা)

১২।সরেজমিনে পরিদর্শন করে (ভিডিও সংরক্ষিত) দেখা যায় যে, ভূমিদস্যুরা ১০০% নীচু, জলাভূমি, কৃষিজমি, ফিশারীজ, প্রাকৃতিক জলাধার, বৃষ্টির পানি ধারক/পরিবাহক, বণ্যাপ্রবাহ এলাকা, ইত্যাদি শ্রেণীর ভূমি ভরাট করছে। মেট্রো মেকারস এন্ড ডেভেলপারসের মামলায় মাননীয় সুপ্রীমকোর্টের রায়/বক্তব্য বিশেষভাবে দ্রস্টব্য।

CIVIL APPEAL NO.256 OF 2009 with CIVIL APPEAL NOS.253-255 OF 2009. and  CIVIL PETITION FOR LEAVE TO APPEAL NO.1689 OF 2006. “… Even if the Master Plan is adjudged void, Bilamalia and Boliarpur answer inclusive definition of Prakritik Jaladhar Ain as they are low lands retaining rain water.  … .”

অর্থাৎ DMDP বা DAP-এ কি বলল বা DMDP বা DAP যদি voidও বিবেচনা করা হয় তবুও সংশ্লিষ্ট ভরাটকৃত বা ভরাটরত যায়গাগুলো যে মানুষের ও জীববৈচিত্র বা পরিবেশের স্বার্থেই ভরাট করা ও ক্রয়/বিক্রয় করা উচিৎ নহে, মাননীয় সুপ্রীমকোর্ট তাই বলেছেন।

ইহা ছাড়াও পরিবেশ সংরক্ষন আইন ১৯৯৫(২০১০সালে সংশোধিত), প্রাইভেট ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট রুল-২০০৪, রিয়েল এস্টেট এ্যাক্ট-২০১০সহ অনেক আইন  প্রকাশ্যে ভঙ্গ করা হচ্ছে। সংরক্ষিত ভিডিও দেখলেই কল্পনা করা যাবে যে, রাজউক ও বেসরকারী আবাসন কোম্পানীগুলো কি জঘন্য অপরাধ করছে। বাসস্থান নির্মানের নামে ঢাকার, দেশের, দেশবাসীর কি সর্বনাশ করছে।

১৩।রাজউক পূর্বাচলে ২০বছর যাবৎ শুধু ভূমি উন্নয়ন করছে ৬১৫০একরXপ্রতি একরে ৩৫০জন=প্রায় ২২লাখ লোকের জন্য। প্রকৃতপক্ষে ৬১৫০একরের অর্ধেক তথা সর্বোচ্চ ৩২০০একরে মানুষ বসবাস করবে। বাকী ভূমি থাকবে ইউটিলিটি ও নাগরিক সুযোগ সুবিধার জন্য। সে হিসাবে ancilliary-সহ রাজউকের এবং আন্তর্জাতিকমানে পূর্বাচল করা হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৫(পনের)লাখ লোকের জন্য। পানি ও স্যুয়ারেজের কোন ব্যবস্থা নাই(সূত্র:-আমাদের সময়:-১০/০১/২০১৪, “রাজউক বিনিয়োগকারী পাচ্ছে না”)।[কি জঘন্য কথা!] সব কিছু ঠিক করে শুধু বাড়ী নির্মানোপযোগী ভূমি প্রস্তুত করতে যদি ৩০-৪০বছর লাগে,(বাড়ী নির্মান করতে আরও ৪-৫বছর), তাহলে এই ৩৫-৪৫বছর বরাদ্ধপ্রাপ্তরা কোথায় বসবাস করছে বা করবে?

Related posts